২০২১ সালের কথা। আমার প্রফেশনাল লাইফের বয়স ১ বছরের কিছু বেশি। এমন একটা বছরে এই জীবনে প্রবেশ করেছিলাম যখন সারা বিশ্বের বেকারত্বের হার তুঙ্গে উঠেছিল। হামদান লিল্লাহ। এরকম একটা সেনসিটিভ সময়েও আল্লাহ্ আমাকে বেকার বসিয়ে রাখেন নি। এই নিয়ামতের শোকর আদায় করার জন্য কীভাবে কী করব বুঝতেই পারিনা। এখানে লিখতেও পারছিনা।
এই ১ বছরের সময়ের মাঝে বেশ কয়েকটা চাকরি সুইচ করেছি। এটা অবশ্যই ভালো কিছু না তবে আল্লাহ্ মিলিয়ে দিয়েছিলেন। যেভাবে চাচ্ছিলাম সেভাবে না হলেও উত্তমভাবে মিলিয়ে দিয়েছেন।
আমার শিক্ষাজীবন শেষ হবার পর খুব বেশিদিন বসে থাকতে হয়নি আলহামদুলিল্লাহ। চাকরি জীবনের ভেতরের গল্প আরেকদিন করা যাবে আল্লাহ্ চাইলে। কিছু অন্য কথা বলি।
আমাদের পড়াশুনার আর বেশিদিন ছিল না। স্বভাবতই চাকরি, ভবিষ্যত ইত্যাদি নিয়ে ভেতরে ভেতরে সবাই পেরেশান থাকে। মাগরীবের নামাজ শেষ হয়েছে। এক বন্ধু সহ রুমে আসছিলাম। মসজিদ থেকে রুমে যেতে যেতে কেউ কারো সাথে কথা বললাম না। আমার বন্ধু সুরা ওয়াকিয়ার প্রাথমিক কিছু আয়াত মুখস্ত তিলাওয়াত করছিল। একটু পরে আমকে বলল,
সুরা ওয়াকিয়া তিলাওয়াত করলে আল্লাহ্ রিজিকের ব্যবস্থা করে দেবেন। পুরা সূরা দেখে পড়তে পারিনা (সে আরবী পড়তে পারে। এখানে পারিনা অর্থ হলো পড়া হয়ে ওঠে না) এজন্য কিছু আয়াত মুখস্ত করে রেখেছি। আল্লাহ্ ব্যবস্থা করে দেবেন। আল্লাহ্ আমার দূর্বলতা মাফ করে দেবেন। তিনিতো সব দেখছেনই।
আমার মনে পড়ল, আমি কোথাও পড়েছিলাম (মোটামুটি বর্ণনা এরকম) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু মৃত্যুর আগে কেউ তাকে বলছিল, সব সম্পদ সাদাকাহ করে সন্তানদের জন্য কিছুই রেখে গেলেন না??
তিনি বললেন, আমি তাদের সুরা ওয়াকিয়া শিখিয়ে দিয়েছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে সুরা ওয়াকিয়ার আমল করে সে দরিদ্র হবে না।
বন্ধুর সেই কথায় আমার হুশ ফিরল। আমি আগে হাদিসটা পড়েছিলাম কিন্তু সেভাবে আমলে নেই নি। এরপর থেকে প্রায় প্রতি মাগরিবের নামাজের পর এটা তিলাওয়াত করতাম। মাঝে মাঝে বাদ যেত কিন্তু নিয়মিত তিলাওয়াত করার চেষ্টা করতাম। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল আলহামদুলিল্লাহ। নিয়মিত পড়েছি। পড়েই গেছি।
আল্লাহ্ আমাকে পড়াশুনা শেষে বেকার বসিয়ে রাখেন নি। আমার রিজিক আমাকে দিয়েছেন। যখন আমার দরকার তখনি দিয়েছেন। আলহামদুলিল্লাহ।
একটা হাদিস আছে (মূলভাবটা এরকম), রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তার চেয়ে উত্তম আহার আর কে উপভোগ করে যে নিজ হাতের উপার্জন দ্বারা আহার করে।
আল্লাহ্ আমাকে প্রতিদিন উত্তম আহার করান আলহামদুলিল্লাহ। সত্যি বলতে ছাত্র অবস্থাতেও টাকা খরচ করেছি (অযথা খরচ করিনি আলহামদুলিল্লাহ) এখনো খরচ করি কিন্তু এখন খরচ করা আর তখনকার খরচ করার অনূভুতি একদম আলাদা।
শুকরান লাকা ইয়া রব্বি (শুকরিয়া তোমার হে আমার রব)।
একটা আশার কথা বলি। এই কথাটা আপনাকে আত্মবিশ্বাস যোগাবে, আপনাকে শক্তিশালী করবে, আপনাকে উদ্দাম বাড়িয়ে দেবে ইনশাআল্লাহ।
আদম সন্তানের ভাগ্যে যতটুকু উপকার লিখা আছে পুরো সৃষ্টিকূল মিলে তার থেকে বেশি উপকার করতে পারবে না, যতটুকু ক্ষতি লিখা আছে পুরো সৃষ্টিকূল মিলে তার থেকে বেশি ক্ষতি করতে পারবে না।
যা সে পেয়েছে তা তার পাওয়ারই ছিল, আর যা সে পায়নি তা কখনো পাওয়ার ছিল না। তার রিজিকে যা কিছু আছে, যতটুকু আছে তা সে পাবেই। তা গ্রহণ করেই সে মরবে।
ভূলে যান জীবনে কি পাননি। শোকর আদায় করুন যাকিছু পেয়েছেন। আর আগত রিজিকের বরকতের জন্য দুয়া রিজিক নিয়ে টেনশন করবেন না। কারণ, রিজিক, সে তো আসমানের ফায়সালা।
Leave a comment